... ১ একটি নির্মিয়মাণ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র যা ২০২১’এর ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয...
 

জেকে ১৯৭১ একটি নির্মিয়মাণ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র যা ২০২১’এর ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার জন্য ফ্রান্সের অর্লি বিমান বন্দরে পাকিস্তানের একটি বিমান হাইজ্যাক করেছিলেন।[1] এই ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বন করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। এর প্রযোজক ও পরিচালক ফাখরুল আরেফিন খান[2] [3]

কে এই জেকে

জ্যঁ ক্যুয়ে একজন ফরাসী। তার পুরো নাম জ্যঁ ইউজিন পল ক্যুয়ে (জন্ম: ১৯৪২  ২০১২)। ১৯৭১-এ তার বয়স ছিল ২৮।

বিমান ছিনতাই ঘটনা

জ্যঁ ক্যুয়ে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ব্যাগে বোমা ও হাতে রিভলবার নিয়ে ফ্রান্সের অর্লি বিমানবন্দরে দাঁড়ানো পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজের একটি বোয়িং ৭২০ বিমানের ককপিটে উঠে পড়েন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থীদের জন্য ২০ টন ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী দাবি করেন।[1] [4] মাত্র ২৮ বৎসর বয়সী এই দু:সাহসী ফরাসী যুবক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে এই বিমানকে পাঁচ ঘণ্টা রানওয়েতে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। তার একমাত্র দাবি ছিল, পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকামী যুদ্ধরত মানুষ, বিশেষ করে ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী শরণার্থীদের, সাহায্যার্থে কিছু ঔষুধ ঐ বিমানটিতে তুলে পাঠাতে হবে। এই অসামান্য ঘটনা টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি প্রচারিত হয়েছিল এবং পরদিন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে সারা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল।

দুপুর ১১.৫০ মিনিটে পিআইএ-র বোয়িংটির ককপিটে গিয়ে পাইলটের গায়ে ৯এমএম পিস্তল ঠেকিয়ে তিনি দাবী তোলেন ঔষধ সামগ্রী পাঠাতে হবে শরণার্থীদের সাহায্যার্থে। তার হাতে একটি বাক্স যা দেখিয়ে সে বলেছিল এটি বোমা। সাহায্য না-পাঠানো হলে বোমা ফাটিয়ে বিমানটি উড়িয়ে দেয়া হবে। ভয়ে কাঁপতে থাকলো যাত্রীরা যাদের অধিকাংশই পাকিস্তানি। দ্রুত ফরাসী টিভিতে এঘটনা সরাসরি দেখানো শুরু হয়। এ সময় পশ্চিম জার্মানির তদানীন্তন ভাইস চ্যান্সেলর উইলি ব্র্যান্ডট ফ্রান্স সফরে এসেছেন। এ সফরের উদ্দেশ্য নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট পম্পেডুর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সব কর্মসূচী ভেস্তে যায়।

আলোচনায় বসা হলো জ্যঁ ক্যুয়ে’র সঙ্গে। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ব্যক্তিগত কোনো লাভালাভের ব্যাপার এখানে নেই। তিনি কেবল চান মুক্তিযুদ্ধরত পূর্ব পাকিস্তানে যেন ফ্রান্স সরকার ঔষুধ সরবরাহ করে সহায়তা করে। আর পিআইএর এই বিমানে করেই যেন সেই মালামাল বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়। [5] [6]

জ্যঁ ক্যুয়ের দাবি ফরাসী সরকার সহজে মেনে নেয়নি। কমান্ডো বাহিনী দিয়ে দিয়ে অর্লি বিমানবন্দর ছেয়ে ফেলে ফরাসী সেনাবাহিনী। তবে এক পর্যায়ে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে সরকার মেনে নেয় তার দাবি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ফরাসী রেডক্রস ও অন্য একটি সাহায্য সংস্থার সহায়তায় দ্রুত সংগ্রহ করে অর্লি বিমান বন্দরে আনা হয় ১ টন ঔষধ। শেষাবধি পিআইএ-র ঐ বিমানেই তোলা হয় ১ টন ঔষুধ এবং বাকী ঔষধ অনতিবিলম্বে প্রেরণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়। [7]

বিমানে ঔষধ বোঝাই করার মুহূর্তে মেকানিকের ছদ্মবেশে ২জন পুলিশ উঠে ককপিটে গিয়ে জ্যঁ ক্যুয়েকে আক্রমণ করে বসে এবং কিল-ঘুষিতে কাবু করে গ্রেপ্তার ফেলে। অঁদ্রে দ্য মল্টা নামের একটি সাহায্য সংস্থার মাধ্যমে সেই ঔষুধ বাংলাদেশে পৌঁছানো হয়েছিল। জ্যঁ ক্যুয়ের কাছে কোন বোমা ছিল না। যে বাক্সটি তাঁর হাতে ছিল তাতে কেবল কিছু বৈদ্যুতিক তার, বই, এক কপি বাইবেল এবং একটি ইলেকট্রিক শেভার পাওয়া গিয়েছিল। তথাপি বিমান হাইজ্যাকের অপরাধে আদালতে তার বিচার হয়েছিল এবং তার ৫ বছর কারাদণ্ড হয়েছিল। তবে ১৯৭৩-এ তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

বহি:সংযোগ

তথ্যসূত্র





  Go to top  

This article is issued from web site Wikipedia. The original article may be a bit shortened or modified. Some links may have been modified. The text is licensed under "Creative Commons - Attribution - Sharealike" [1] and some of the text can also be licensed under the terms of the "GNU Free Documentation License" [2]. Additional terms may apply for the media files. By using this site, you agree to our Legal pages [3] [4] [5] [6] [7]. Web links: [1] [2]