... কোটি টাকা পাচার মামলা বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশান ডিপার্মেণ...
 

ফরিদপুরের দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলা বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশান ডিপার্মেণ্ট (সিআইডি) কর্তৃক ২০২০ দায়েরকৃত একটি বিদেশে অর্থপাচার মামলা। এ মামলা ঢাকা শহরের কাফরুল থানায় দায়ের করা হয়েছে এবং ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্তপূর্বক ২০২০ সালের ৩ মার্চ তারিখে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সিআইডি) উত্তম কুমার বিশ্বাস। অভিযোগপত্রে দশজন ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।[1]

ইতিহাস

২০২০ সালের ১৬ জুন রাতে ফরিদপুর শহরের মোল্লাবাড়ী সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। অতঃপর সুবল চন্দ্র সাহা বাদী হয়ে ১৮ জুন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযেগে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ জুলাই ২০২০ তারিখে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আরও সাতজনকে আটক করে। অতঃপর ঢাকার সিআইডি পুলিশ বরকত ও রুবেলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে নামে।[2]

বিদেশে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৬ জুন ফরিদপুরের সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে ঢাকার কাফরুল থানায় বিদেশে মুদ্রা পাচার আইনে মামলা করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ। এরা সহোদর। সাজ্জাদ হোসেন বরকত ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আরেক ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি।[3]

তাদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল। এছাড়া, মাদক ব্যবসা ও ভুমি দখল করে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। ২৩টি বাস, ট্রাকসহ বিলাসবহুল গাড়িরও মালিক হয়েছেন। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ৭ জুন রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ওই মামলার আসামি হিসেবে ফরিদপুর শহরের শহরের বদরপুরস্থ আফসানা মঞ্জিলসহ শহরের বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত পর সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল প্রদত্ব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর ভিত্তিতে আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও তাদের সহযোগী হিসেবে শহীদুল ইসলাম ও ফকির বেলায়েতের নাম পাওয়া যায়। এই দুই জনের মধ্যে শহীদুল ইসলাম মজনু (৪৭) ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি সদর যুবলীগের একজন সদস্য। অপর ব্যক্তি ফকির বেলায়েত হোসেন (৪৬) ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জানিয়েছেন যে ১৬৪ ধারায় বরকত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে সেখানে এই দুই ইউপি চেয়ারম্যানের নাম উঠে আসে। মামলায় তাদের নাম যুক্ত করা হলে পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বাংলাদেশ হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন নেন। চার সপ্তাহ জামিন শেষে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে। আদালত অধিকতর জামিন না দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।[4] [5] ২৫ আগস্ট ২০২১ তারিখে আরেকজন অভিযুক্ত ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ফাইনকে (৩৪) গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি ফরিদপুর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঐ দিন রাত ২ টায় মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয়ের পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে শিবালয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।[6]

পুলিশ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত করে এবং ২০২০ সালের ৩ মার্চ তারিখে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সিআইডি) উত্তম কুমার বিশ্বাস। অভিযোগপত্রে দশজন ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া তাদের সহযোগী আরো ৪২ জন ব্যাক্তিকে নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাদের কারো বিষয়ে প্রমাণ পেলে আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

এই মামলার সূত্রে নিশান মাহমুদ শামীমকে ২১শে আগস্ট ২০২১ রাত্রে গ্রেফতার করা হয়। ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। ঢাকার উত্তরা থেকে তাকে সিআইডি গ্রেফতার করে।[7] এছাড়া ১৩ অক্টোবর ২০২১ রাতে মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফের এপিএস ফুয়াদকে গ্রেফতার করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।[8]

দুই ভাইয়ের উপার্জন

এই অর্থ পাচার মামলায় দুই প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল। পুলিশ আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগনামায় উল্লেখ করে যে, তাদেরকে ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এলজিইডি ৪৭৫টি ঠিকাদারী কাজ প্রদান করেঅ এ সবের মোট অর্থ মূল্য ৮১২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া সমসময়ে দুই ভাইয়ের ৯টি ব্যাংকে খোলা ১৮৮টি হিসাবে ২ হাজার ৯১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।[9]

তথ্যসূত্র





  Go to top  

This article is issued from web site Wikipedia. The original article may be a bit shortened or modified. Some links may have been modified. The text is licensed under "Creative Commons - Attribution - Sharealike" [1] and some of the text can also be licensed under the terms of the "GNU Free Documentation License" [2]. Additional terms may apply for the media files. By using this site, you agree to our Legal pages [3] [4] [5] [6] [7]. Web links: [1] [2]