... Samarendranath Sen), ছিলেন একজন বাঙালি পদার্থবিদ, প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদ ও ...
 

সমরেন্দ্রনাথ সেন
জন্ম(১৯১৮-১০-০১)১ অক্টোবর ১৯১৮
মৃত্যু১৩ এপ্রিল ১৯৯২(1992-04-13) (বয়স ৭৩)
জাতীয়তাভারতীয়
নাগরিকত্বভারতীয় ভারত
পেশাপদার্থবিদ, লেখক ও প্রাবন্ধিক
পরিচিতির কারণ"বিজ্ঞানের ইতিহাস"
দাম্পত্য সঙ্গীকণিকা সেন
সন্তান৩ কন্যা
পিতা-মাতাসুরেন্দ্রনাথ সেন (পিতা)
ঊষারাণী সেন (মাতা)
পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার
নরসিংহ পুরস্কার

সমরেন্দ্রনাথ সেন (ইংরেজি: Samarendranath Sen) ( ১ অক্টোবর, ১৯১৮ ― ১৩ এপ্রিল, ১৯৯২), ছিলেন একজন বাঙালি পদার্থবিদ, প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদ ও প্রাবন্ধিক]]। [1]

জন্ম ও শিক্ষা জীবন

সমরেন্দ্রনাথের জন্ম বৃটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার শ্যামবাজারে। পিতা সুরেন্দ্রনাথ সেন এবং মাতা ঊষারাণী সেন। পড়াশোনা শুরু হয় উত্তর কলকাতার একটি স্কুলে। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন এবং ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স সহ স্নাতক হন। পদার্থবিজ্ঞানের যেমন কৃতি ছাত্র ছিলেন, তেমনি ছাত্রাবস্থায় একজন ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। সকল রকমের অঙ্কনেও সমান দক্ষ ছিলেন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশুদ্ধ পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে এমএসসি পাশ করেন ও স্বর্ণ পদক লাভ করেন।

কর্মজীবন

এমএসসি পাশের পর তিনি ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে প্রভাষক হিসাবে নিযুক্ত হন। এখানে অধ্যাপনাকালে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে রচিত "ইন্ডিয়ান কনট্রিবিউশন টু সায়েন্টিফিক থট" লেখাটির যুগ্ম লেখক ছিলেন মেঘনাদ সাহা ও তিনি। [2] সমরেন্দ্রনাথ ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশনের পত্রিকা "সায়েন্স অ্যান্ড কালচার"-এর যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রথম বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ আণবিক বোমা বাংলা ভাষায় রচনা করেন।[1] মেঘনাদ সাহার চেষ্টায় মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্স বৃহৎ গবেষণাগারে পরিণত হবার সময় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন। প্রায় ওই সময়েই ইউনেস্কোর আমন্ত্রণ পেয়ে প্যারিসে যান এবং সেখানে বিজ্ঞান বিভাগে দু'বৎসর কাজ করেন। [2] প্রখ্যাত প্রাণরসায়ণ বিজ্ঞানী জোসেফ নীধমের অনুপ্রেরণায় ভারতের প্রসঙ্গে বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন। ইউনেস্কো থেকে ফিরে আসার পর ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্সে রেজিস্ট্রার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে অবসর নেন। এইসময়ের মধ্যে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বৃটিশ কাউন্সিলের অনুদানে চার মাস ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন। [1] এবং ঊনিশ শতকের ভারতীয় বিজ্ঞান বিষয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণার কাজে সংস্কৃত ভাষাজ্ঞানের প্রয়োজনীতা উপলব্ধি করে সংস্কৃতে পারদর্শী ছাত্রদের সাহায্যে প্রকাশ করেন শুল্ব সূত্র, প্রাচীন ভারতের জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে সংস্কৃত রচনার গ্রন্থপঞ্জী। তবে দুই খণ্ডে বিজ্ঞানের ইতিহাস গ্রন্থ রচনা তাঁর উল্লেখযোগ্য কীর্তি।

১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর হিস্ট্রি অব সায়েন্স গঠিত হলে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। সমরেন্দ্রনাথ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠ্যক্রম তৈরিও করেন, কিন্তু সোসাইটি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায়, তা সফল হয় নি। তবে সমরেন্দ্রনাথ ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে হিস্ট্রি অব সায়েন্স' এর বোর্ড গঠিত হলে, তিনি প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য মনোনীত হন।

রচিত গ্রন্থসমূহ

  • আণবিক বোমা (১৯৪৬)
  • বিজ্ঞানের ইতিহাস (১৯৫৫ -১ম খণ্ড, ১৯৫৮-২য় খণ্ড)
  • বিজ্ঞান প্রবেশ (১৯৫৯)
  • বিজ্ঞানাচার্য ড.মহেন্দ্রলাল সরকার (১৯৮৫)
  • সি ভি রামণ: সায়েন্টিফিক ওয়ার্ক অ্যাট ক্যালকাটা (১৯৮৮) (ইংরাজীতে)

এছাড়া বিজ্ঞানের ইতিহাসের উপর বেশ কয়েকটি গবেষণা পত্র তৈরি করেছিলেন। দেশ-বিদেশের নানা পত্রিকায় শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।


পুরস্কার ও সম্মাননা

১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রচিত "বিজ্ঞানের ইতিহাস" গ্রন্থটির জন্য সমরেন্দ্রনাথ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন এবং সেই সাথে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও তাঁকে 'নরসিংহদাস পুরস্কার' প্রদান করে।

ব্যক্তিগত জীবন

সমরেন্দ্র নাথ সেন ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ২৫ বৎসর বয়সে কণিকা সেন'কে বিবাহ করেন। ড.জয়তী মিত্র তাদের তিন কন্যার অন্যতম।[1]

তথ্যসূত্র

  1. 1 2 3 4 "Samarendra Nath Sen - The Doyen of research in the History in India ,(ইংরাজীতে)"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৯-১৮ 
  2. 1 2 অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯ পৃষ্ঠা ৪১৮, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬




  Go to top  

This article is issued from web site Wikipedia. The original article may be a bit shortened or modified. Some links may have been modified. The text is licensed under "Creative Commons - Attribution - Sharealike" [1] and some of the text can also be licensed under the terms of the "GNU Free Documentation License" [2]. Additional terms may apply for the media files. By using this site, you agree to our Legal pages [3] [4] [5] [6] [7]. Web links: [1] [2]